সুকান্ত ভট্টাচার্য  – প্রবন্ধ রচনা | Sukanta Bhattacharya Prabandha Rachana Class 12

সুকান্ত ভট্টাচার্য প্রবন্ধ রচনা (Sukanta Bhattacharya Prabandha Rachana), সুকান্ত ভট্টাচার্য এর জীবনী (Sukanta Bhattacharya Biography in Bengali) , শতবর্ষের আলোকে সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুকান্ত ভট্টাচার্য উচ্চ মাধ্যমিক 2026 রচনা (HS 2026), উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা রচনা, উচ্চ-মাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার রচনা, সুকান্ত ভট্টাচার্য প্রবন্ধ রচনা Class 12

সুকান্ত ভট্টাচার্য  – প্রবন্ধ রচনা (Sukanta Bhattacharya Prabandha Rachana Class 12)

প্রদত্ত সূত্র ও তথ্য অবলম্বনে একটি প্রবন্ধ রচনা করো : 

সুকান্ত ভট্টাচার্য

তথ্যসূত্র

জন্ম: ১৬ আগস্ট ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ, দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে।

পিতা: নিবারণ ভট্টাচার্য।

মাতা: সুনীতি দেবী।

পারিবারিক গরিচয়: আদি নিবাস অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়া। ভাগ্যের অন্বেষণে পূর্বপুরুষদের কলকাতায় আগমন। শৈশবকাল অতিবাহিত হয় বাগবাজারের নিবেদিতা লেন ও পরে বেলেঘাটায়।

শিক্ষাজীবন: প্রাথমিক বিদ্যালয় কমলা বিদ্যামন্দিরে পড়াশোনার সূচনা। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর পড়াশোনা আর বেশিদূর এগোয়নি।

কবিজীবন: নয়-দশ বছর বয়স থেকে ছড়া রচনার মধ্য দিয়েই তাঁর কাব্যজীবনের সূত্রপাত হয়। বিদ্যালয় জীবন থেকেই তিনি কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-ছাড়পত্র, পূর্বাভাস, ‘ঘুম নেই’, ‘মিঠে কড়া’ প্রভৃতি। এ ছাড়াও রচনা করেছেন-নাটক সংকলন ‘অভিযান’, গল্পের অনুবাদ ও নাটিকা সংগ্রহ ‘হরতাল’, গানের সংকলন ‘গীতিগুচ্ছ’।

রাজনৈতিক জীবন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি মার্কসবাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। কিশোরদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘কিশোর বাহিনী’। ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকায় কিশোর বিভাগের সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।

মৃত্যু: ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৩ মে মাত্র একুশ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে কবির জীবনাবসান ঘটে।

প্রদত্ত তথ্যসূত্রের ওপর ভিত্তি করে সুকান্ত ভট্টাচার্য প্রবন্ধ রচনা

শতায়ু কিশোর সুকান্ত

ভূমিকা 

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা কবিতার জগতে এক মহাবিস্ময়। মাত্র একুশ বছরের জীবনে তিনি যে পরিণত প্রতিভার পরিচয় দিয়ে গিয়েছেন বাংলা কবিতায় তা তুলনারহিত। ভাষা-ছন্দ-বাষ্প্রতিমা নির্মাণে অসাধারণ দক্ষতা ও প্রতিবাদী চেতনায় সমকালীন কবিদের মধ্যে তাঁর স্বতন্ত্র অস্তিত্ব প্রকটিত হয়ে ওঠে। স্বল্পায়ু কবি স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল পেলে বাংলা কবিতার ভান্ডার আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠত তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে কবির জন্ম। কবির পিতার নাম নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য এবং মাতার নাম সুনীতি দেবী। কবির পিতৃপুরুষের নিবাস ছিল অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়। কবির ছেলেবেলা অতিবাহিত হয় উত্তর কলকাতার বাগবাজারের নিবেদিতা লেনে। পরে তাঁরা স্থায়ীভাবে বেলেঘাটায় বসতি স্থাপন করেন।

শিক্ষাজীবন

কমলা বিদ্যামন্দিরে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার সূচনা হয়। বিদ্যালয় জীবনেই তিনি কবি হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন। প্রচুর ছড়া রচনা করে আত্মীয়পরিজনদের কাছে কবি হিসেবে পরিচিত হন। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি বেলেঘাটা দেশবন্ধু হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে দুরারোগ্য যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর পড়াশোনায় ছেদ পড়ে।

কর্মজীবন

১৯৪১-৪২ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে তিনি মার্কসবাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। ১৯৪৩-এ দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের সেবায় তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেন। গড়ে তোলেন ‘কিশোর বাহিনী’ নামক সংগঠন। ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকার কিশোর বিভাগের সম্পাদনার দায়িত্ব তিনি বেশ কিছুদিন পালন করেন।

কাব্য-জীবন

অসাধারণ প্রতিভাসম্পন্ন কবির জীবৎকালে কোনো কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। মৃত্যুর পরে প্রকাশিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ছাড়পত্র’। পরবর্তীকালে প্রকাশিত হয় ‘পূর্বাভাস’, ‘ঘুম নেই’ এবং আরও দুটি কাব্যগ্রন্থ। সুকান্ত ছোটোবেলা থেকেই ছড়া রচনায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। ‘মিঠে কড়া’ তাঁর বিখ্যাত একটি ছড়া সংকলন। এ ছাড়াও তিনি রচনা করেন-নাটকের সংকলন-‘অভিযান’, অনুবাদ ও নাটিকা সংগ্রহ ‘হরতাল’, গীতি সংকলন গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি। ফ্যাসিবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘের পক্ষে ‘আকাল’ নামে একটি কাব্যসংকলনও সম্পাদনা করেন। 

কাব্য-বৈশিষ্ট্য 

বামপন্থী জীবনাদর্শে বিশ্বাসী কবি মেহনতি, শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে লেখনী ধারণ করেন। দুর্ভিক্ষের কবি তাঁর কবিতায় দুর্ভিক্ষের যারা স্রষ্টা, সমাজ বৈষম্যের যারা মূলে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। যে প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়া সমাজ তেত্রিশ কোটি মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে খাচ্ছে নিজের রক্তলেখায় তারই সর্বনাশ এঁকেছেন কবি। সুকান্তের কোল্টা যে কবিতা আর কোন্টা যে স্লোগান তা নির্ধারণ করা সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। রাজনৈতিক উত্তাপের প্রাধান্য তাঁর কবিতাকে স্লোগানে পরিণত করে দিয়েছে। এই কবিকেই স্মরণ করে রবীন্দ্রনাথ তাঁর জন্মদিনে কাব্যগ্রন্থের ১০ সংখ্যক কবিতায় বলেছেন- 

যে আছে মাটির কাছাকাছি

সে কবির বাণী লাগি কান পেতে আছি।

মৃত্যু

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৩ মে মাত্র একুশ বছর বয়সে কবি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

উপসংহার

ইংরেজ কবি কিটসের মতো কবি সুকান্ত তিলে তিলে ক্ষয় হতে হতে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে এক মহানক্ষত্রের পতন ঘটল। কবি বুদ্ধদেব বসু তাঁর মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন- “কবি হওয়ার জন্যই জন্মেছিল সুকান্ত, কবি হতে পারার আগে তার মৃত্যু হল। তার জন্যে দ্বিগুণ আমাদের দুঃখ”। কবিপ্রতিভার পূর্ণ বিকাশের পূর্বেই তাঁর মহাপ্রয়াণ ঘটে। এত বড়ো প্রতিভার এমন অপচয়ের দৃষ্টান্ত বাংলা সাহিত্যে আর নেই। অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় যথার্থই বলেছেন-“কবি কিশোর সুকান্ত ভট্টাচার্যের (১৯২৬-৪৭) কবিতা কবিকর্মের এক পরম বিস্ময়। মাত্র একুশ বছর বয়সের মধ্যেই তিনি যে পরিণত প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন এবং ভাষা, ছন্দ ও বাষ্প্রতিমা সৃষ্টিতে যে সূক্ষ্মতা দেখিয়েছেন তাতে মনে হয়, বিধাতা তাঁকে আর একটু দীর্ঘজীবী করলে আধুনিক বাংলা কবিতার দিগন্ত আরও নতুন সৃষ্টি সম্ভাবনায় পূর্ণ হয়ে উঠতে পারত”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *