বেগম রোকেয়া প্রবন্ধ রচনা (Begum Rokeya Prabandha Rachana), বেগম রোকেয়া এর জীবনী (Begum Rokeya Biography in Bengali), বেগম রোকেয়া উচ্চ মাধ্যমিক 2026 রচনা (HS 2026), উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা রচনা, উচ্চ-মাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার রচনা, বেগম রোকেয়া প্রবন্ধ রচনা Class 12
সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়া – প্রবন্ধ রচনা (Begum Rokeya Prabandha Rachana Class 12)
প্রদত্ত সূত্র ও তথ্য অবলম্বনে একটি প্রবন্ধ রচনা করো :
বেগম রোকেয়া প্রবন্ধ রচনা
জন্ম: ৯ ডিসেম্বর, ১৮৮০, বর্তমান বাংলাদেশের রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে।
পিতা: জহীরুদ্দিন আবু আলি হায়দার সাবের।
মাতা: রাহাতুন্নেসা চৌধুরী।
সমসাময়িক সমাজ: পর্দাপ্রথা প্রচলিত। খানদানি ফারসি বা উর্দু ভাষা শেখা যাবে। বাংলা বা ইংরেজি নয়।
পারিবারিক বৃত্ত ও শিক্ষালাভ : রক্ষণশীল পরিবার। দিদি করিমুন্নেসা এবং দাদা ইব্রাহিম সাবেরের প্রেরণা ও সহযোগিতায় বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষা।
বিবাহ: ১৬ বছর বয়সে, পাত্র সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন। ওড়িশা কণিকা স্টেটের ম্যানেজার।
বিবাহিত জীবন স্বামীর কাছে ইংরেজি শিক্ষা। লিখলেন ‘Sultana’s Dream’, লেখিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ। দুই কন্যা। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে সাখাওয়াতের মৃত্যু।
সাহিত্যরচনার উদ্দেশ্য: দেশহিত ও মানুষের মঙ্গলসাধন।
সাহিত্যকৃতি: পিপাসা, মতিচুর, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী।
উল্লেখযোগ্য কীর্তি: সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল (১৯১১), ‘নিখিলবঙ্গ মুসলিম মহিলা সমিতি’ বা ‘আঞ্জুমন-ই-খাওয়াতিনে ইসলাম’ (১৯১৬)।
মৃত্যু: ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর।
সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়া
ভূমিকা
মুসলিম সমাজে নারীশিক্ষার অন্যতম পথিকৃত বেগম রোকেয়া। তিনি ছিলেন একজন বাঙালি চিন্তাবিদ, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, সাহিত্যিক ও সমাজসংস্কারক।
জন্ম ও বংশপরিচয়
১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর বর্তমান বাংলাদেশের রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবার নাম জহিরুদ্দিন আবু আলি হায়দার সাবের, মা রাহাতুন্নেসা চৌধুরী।
পারিবারিক বৃত্ত ও শিক্ষালাভ
তৎকালীন মুসলিম সমাজে নারীশিক্ষার তেমন প্রচলন ছিল না। মেয়েদের থাকতে হত পর্দার আড়ালে কঠোর অনুশাসনে। রোকেয়ার পরিবার ছিল খুবই রক্ষণশীল। তাঁর বাবা অভিজাত বংশের সন্তান এবং আরবি ও ফারসি ভাষায় সুপণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও মেয়েদের লেখাপড়া শেখাবার বিষয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত গোঁড়া। তাই বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রথাগত – শিক্ষালাভের সৌভাগ্য তাঁর হয়নি। জন্মসূত্রে হিন্দুস্তানি রোকেয়ার মাতৃভাষা ছিল উর্দু। আর ইসলাম স্বীকৃত আরবি বা খানদানি ফারসি ভাষায় শিক্ষার ৪ ছাড়পত্র থাকায় রোকেয়া বাড়িতে এই ভাষাগুলি শিখেছিলেন। কিন্তু বাংলা বা ইংরেজি শেখায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। মেধাবী রোকেয়া গোপনে রাত্রিবেলা তাঁর দাদা ইব্রাহিম ও দিদি করিমুন্নেসার কাছে শিখতে থাকেন ইংরেজি, বাংলা ও বিজ্ঞান।
বিবাহিত জীবন
রোকেয়ার যখন ষোলো বছর বয়স তখন তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয় সাখাওয়াত হোসেনের। বিপত্নীক সাখাওয়াত ছিলেন রোকেয়ার প্রায় দ্বিগুণ বয়সী। ওড়িশার কণিকা স্টেটের তৎকালীন ম্যানেজার সাখাওয়াতের উৎসাহ ও সহযোগিতায় রোকেয়া নতুন করে লেখাপড়া শুরু করেন এবং বাংলা ও ইংরেজি দুটি ভাষাতেই দক্ষতা অর্জন করেন। স্বামীর উৎসাহে তিনি লেখালেখিও শুরু করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যু হয়।
বেগম রোকেয়া প্রবন্ধ রচনা
সমাজসংস্কার ও শিক্ষাসংস্কার
মাত্র উনত্রিশ বছর বয়সে বিধবা হয়েও বেগম রোকেয়া কিন্তু ভেঙে পড়েননি, বরং নতুন উদ্যমে তিনি মুসলিম মেয়েদের শিক্ষা ও স্বাধীনতার প্রসারে ব্রতী হন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি কলকাতায় চলে আসেন এবং ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে মাত্র আট জন ছাত্রী নিয়ে চালু করেন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল। অজ্ঞতা, অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে আর পর্দার অবরোধ থেকে নারীজাতিকে মুক্ত করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্যে ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি ‘নিখিলবঙ্গ মুসলিম মহিলা সমিতি’ বা ‘আঞ্জুমন-ই-খাওয়াতিনে ইসলাম’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
সাহিত্যচর্চা
বেগম রোকেয়ার লেখা প্রথম উপন্যাস ‘Sultana’s Dream’। এ ছাড়াও তাঁর লেখা বইগুলির মধ্যে রয়েছে ‘পিপাসা’, ‘মতিচুর’ (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড), ‘পদ্মরাগ’, ‘অবরোধবাসিনী প্রভৃতি। ইংরেজি, বাংলা উভয় ভাষাতেই তিনি লেখালেখি করতেন। কলমকেই তিনি তাঁর সমাজ বদলের হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেন।
উপসংহার
১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর এই মহীয়সী নারীর মৃত্যু হয়। পূর্ব ও পশ্চিম বঙ্গে স্ত্রীশিক্ষার প্রসারে, বিশেষত মুসলিম সমাজে স্ত্রীশিক্ষা এবং নারীর সামগ্রিক সামাজিক অবস্থানের উন্নতিকল্পে বেগম রোকেয়ার অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর এই অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। তাঁর পৈতৃক বাড়িতে গড়ে তোলা হয়েছে বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র। দুই বাংলার সংস্কৃতিমনা মানুষের মনে তিনি এক চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।

