উত্তম কুমার প্রবন্ধ রচনা (Uttam Kumar Prabandha Rachana), উত্তম কুমার এর জীবনী (Uttam Kumar Biography in Bengali) , শতবর্ষের আলোকে উত্তম কুমার, উত্তম কুমার উচ্চ মাধ্যমিক 2026 রচনা (HS 2026), উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা রচনা, উচ্চ-মাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার রচনা, উত্তম কুমার প্রবন্ধ রচনা Class 12
উত্তম কুমার – প্রবন্ধ রচনা (Uttam Kumar Prabandha Rachana Class 12)
প্রদত্ত সূত্র ও তথ্য অবলম্বনে একটি প্রবন্ধ রচনা করো :
উত্তম কুমার
জন্ম: ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯২৬, ভবানীপুর, কোলকাতা
পিতা: সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায়
মাতা: চপলা চট্টোপাধ্যায়
শিক্ষা: চক্রবেড়িয়া হাই স্কুল, পরে সাউথ সাবার্বান স্কুল থেকে মেট্রিক পাশ, ১৯৪৫ সালে কলকাতার গোয়েঙ্কা কলেজ অফ কমার্সে ভর্তি হন কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে গ্রাজুয়েশন শেষ করতে পারেননি।
কর্মজীবন: ১৯৪৬ সালে, ২৪৫ টাকা মাইনেতে কোলকাতা বন্দরে কেরানির চাকরি নেন। ১৯৪৭ থেকে চলচ্চিত্র জীবন শুরু।
অভিনয় জীবন: ‘মায়ামৃগ, ধন্যি মেয়ে, সপ্তপদী, সোনার হরিণ, জীবন-মৃত্যু, মন নিয়ে, শেষ অঙ্ক, দেয়া-নেয়া, সন্ন্যাসী রাজা, অগ্নিশ্বর, এ্যান্টনি ফিরিঙ্গী’ প্রভৃতি।
মৃত্যু: ২৪ জুলাই, ১৯৮০।
শতবর্ষে চির অরুণ উত্তম কুমার প্রবন্ধ রচনা
‘‘কোন সে পুরুষোত্তম যাঁর কৃপায়
তুমি আজ পুরুষ উত্তম !
রূপে গুনে বয়নে- নয়নে চলনে আচরণে
শিল্প নৈপুন্যে, বাক্যলাবণ্যে, সমস্ত মুদ্রায় চেষ্টায়
প্রকাশে বিলাসে
তুমি আজ লোককান্ত সকলের রূপ-রতন।’’
— অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত
কথামুখ
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিংবদন্তি ‘মহানায়ক’ হিসেবে প্রোজ্জ্বল তারকা উত্তমকুমার। অভিনয়ের আভিজাত্যে ও নৈপুণ্যে তিনি বাঙালির ‘আইকন’। আপামর বাঙালির হৃদয়ে তিনি প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব হিসেবে পূজিত। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে বহু প্রতিবন্ধকতা জয় করে তিনি অসাধারণ হয়ে উঠেছেন।
জন্ম ও পিতৃ পরিচয়
১৯২৬ সালের ৩ রা সেপ্টেম্বর কলকাতার ভবানীপুরে আহিরিটোলা স্ট্রিটে তার মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন উত্তম কুমার। যার আসল নাম অরুন কুমার চট্টোপাধ্যায়, বাবা সাতকরি চট্টোপাধ্যায় এবং মা চপলা দেবী। তাঁর এক দিদি ও দুই ভাই যথাক্রমে বরুণ কুমার ও তরুণ কুমার। ছোটবেলাতেই তাঁর দিদি মারা যান। ছোট ভাই তরুণ কুমারও ছিলেন বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা।
শিক্ষা
তিনি প্রথমে চক্রবেড়িয়া হাইস্কুলে ভর্তি হন, পরে সাউথ সাবার্বান স্কুল থেকে মেট্রিক পাস করেন। ১৯৪৫ সালে কলকাতার গোয়েঙ্কা কলেজ অফ কমার্সে ভর্তি হন কিন্তু পারিবারিক আর্থিক অনটনের জন্য শেষ বর্ষে কলেজ ছাড়তে হয় তাঁকে।
কর্মজীবন
এক সাধারন পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে সংসারের হাল ধরতে চাকরির খোঁজ শুরু করেন তিনি। শিক্ষাজীবন অসমাপ্ত রেখেই অনেক খুঁজে ১৯৪৬ সালে কলকাতা বন্দরে কেরানির চাকরি নেন উত্তম কুমার। যার মাসিক বেতন ছিল ২৭৫ টাকা। তবে অভিনয়ের প্রতি প্রতি ঝোঁকের কারনে চাকরিতে মাঝে মাঝে ছেদ পড়ে। তবে নাটকে তাঁর আদর্শ ছিলেন শিশির কুমার ভাদুড়ী ও সিনেমায় প্রমথেশ বড়ুয়া যাঁদেরকে দেখে তিনি এই সিনেমার প্রতি আকর্ষিত হন।
অভিনয় জীবন
বাঙালির মহানায়ক উত্তমকুমারের অভিনয় জীবনের সূত্রপাত ‘মায়াডোর’ চলচ্চিত্রে। তবে ছবিটি মুক্তি পায়নি। তাঁর প্রথম অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘দৃষ্টিদান’। ‘বসু পরিবার’ চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ মুক্তি পাওয়ার পরে তিনি চলচ্চিত্র জগতে স্থায়ী আসন লাভ করেন। রোমান্টিক নায়ক কিংবা পার্শ্বচরিত্রে নৈপুণ্যের সাথে অভিনয় করে বাঙালির হৃদয়ে আপনজন হয়েছেন।
পরিচালক উত্তমকুমার
সুঅভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র অভিনয় জগতে তিনি যেমন সুখ্যাতি লাভ করেছেন পরিচালক হিসেবেও ঠিক তেমনই প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে ‘শুধু একটি বছর’, ‘১৯৭৩-এ ‘বন পলাশীর পদাবলী’, ‘১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে ‘কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী’ তাঁর পরিচালনায় মুক্তি পায় এবং ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।
বক্স অফিস
জনপ্রিয় অভিনেতা, গায়ক, সুরকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে তাঁর বক্স অফিস ছিল উচ্চাসনে। তাঁর অভিনীত বিখ্যাত ছায়াছবিগুলি হল-‘দৃষ্টিদান’, ‘নষ্টনীড়’, ‘বসু পরিবার’, ‘সাড়ে চুয়াত্তর’, ‘শাপমোচন’, ‘পথে হলো দেরী’ (রঙিন ছবি), ‘হারানো সুর’, ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’, ‘দেয়া-নেয়া’, ‘ঝিন্দের বন্দী’, ‘সপ্তপদী’, ‘ভ্রান্তিবিলাস’, ‘থানা থেকে আসছি’, ‘নিশিপদ্ম’, ‘বাঘ বন্দীর খেলা’, ‘সব্যসাচী’, ‘শ্রীকান্তের উইল’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘নায়ক’ প্রভৃতি।
সম্মাননা
১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে ‘চিড়িয়াখানা’ ও ‘এন্টনী ফিরিঙ্গি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রথম ভরত পুরস্কারে সম্মানিত হন। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে অভিনয়ে সুখ্যাতির জন্য জাতীয় পুরস্কার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মান পান। ১৯৬৯-এর ১৯ জানুয়ারি কলকাতা পুরসভা তাঁকে নাগরিক সংবর্ধনা জানায়।
উপসংহার
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘মহানায়ক’ হিসেবে প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব উত্তমকুমার। অভিনেতা হিসেবে সব সীমানার বাঁধ ভেঙে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তিনি স্বনামধন্য শিল্পী। অভিনয়ে তাঁর বাচনভঙ্গি, ঠোঁটে গান বাঙালির মনের রসনাকে আজও তৃপ্ত করে। তাঁর ব্যক্তিত্বের ছাপ বাঙালি যুবমানসের সর্বক্ষণের ছায়াসঙ্গী। এককথায় উত্তমকুমার বাঙালির আবেগ, ভালোবাসার অন্য নাম। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দের ২৪ জুলাই ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ছবির শুটিং চলাকালীন হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হন।
শতবর্ষে ঋত্বিক ঘটক – প্রবন্ধ রচনা (Ritwik Ghatak rochona in bengali)

