সলিল চৌধুরী  – প্রবন্ধ রচনা | Salil Chowdhury Prabandha Rachana Class 12

সলিল চৌধুরী প্রবন্ধ রচনা (Salil Chowdhury Prabandha Rachana), সলিল চৌধুরী এর জীবনী (Salil Chowdhury Biography in Bengali) , শতবর্ষের আলোকে সলিল চৌধুরী, সলিল চৌধুরী উচ্চ মাধ্যমিক 2026 রচনা (HS 2026), উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা রচনা, উচ্চ-মাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার রচনা, সলিল চৌধুরী প্রবন্ধ রচনা Class 12

সলিল চৌধুরী  – প্রবন্ধ রচনা (Salil Chowdhury Prabandha Rachana Class 12)

প্রদত্ত সূত্র ও তথ্য অবলম্বনে একটি প্রবন্ধ রচনা করো : 

সলিল চৌধুরী

জন্ম: ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের, ১৯ নভেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুরের অন্তর্গত সোনারপুরে।

পিতৃপরিচয়: জ্ঞানেন্দ্রময় চৌধুরী।

শিক্ষা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোদালিয়া গ্রামে। হরিনাভি বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ। কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজ থেকে স্নাতক।

কর্মজীবন: ১৯৪৪ সালে ভারতীয় গণনাট্য সংঘ বা আইপিটিএ যোগদান ও গণসংগীত রচনা। চলচ্চিত্রের জন্য সংগীত রচনা। 

পুরস্কার: ১৯৫৮ সালে ফিল্মফেয়ার সংগীত পরিচালক পুরস্কার। ১৯৭৩ সালে বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড।

মৃত্যু: ১৯৯৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর।

শতবর্ষের সুরাকাশে সলিল চৌধুরী

‘পৃথিবী তোমারে যে চায়’

কথামুখ

রবীন্দ্র ও নজরুল পরবর্তী বাংলা সংগীতজগতে সলিল চৌধুরীর মতো সংগীত প্রতিভা সত্যিই বিরল। বাঙালি সহ সমগ্র ভারতবাসীর প্রিয় সলিলদা ছিলেন একাধারে সংগীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার এবং গল্পকার। বাংলা, হিন্দি, মালয়ালম সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তিনি সংগীত পরিচালনা করেছেন। তিনি অসম্ভব ভালো বাঁশি, পিয়ানো ও এসরাজ বাজাতে পারতেন। এ ছাড়া তাঁর কবিতার হাতটাও ছিল অসম্ভব নন্দিত ও প্রশংসিত। পিতা জ্ঞানেন্দ্রময় চৌধুরীর কাছে সলিল চৌধুরীর সংগীতের হাতেখড়ি হলেও পিতৃব্য নিখিল চৌধুরীর কাছেও তিনি তালিম নেন।

জন্ম ও পিতৃপরিচয়

১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের, ১৯ নভেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুরের অন্তর্গত সোনারপুরে। তার বাবা জ্ঞানেন্দ্রময় চৌধুরী আসামের লতাবাড়ি চা বাগানে ডাক্তারি করতেন। বাবার কাছে সলিল চৌধুরীর সংগীত শিক্ষার হাতেখড়ি।

শিক্ষাজীবন

মামার বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৎকালীন কোদালিয়া গ্রাম বর্তমানে সুভাষগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা। হরিনাভি বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ। কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজ থেকে স্নাতক হন।

কর্মজীবন

স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণের সময়ে সংগীত জ্ঞানে পরিপক্কতা লাভের পাশাপাশি দ্রুত রাজনৈতিক ধারণা জন্মায়। ১৯৪৪ সালে যখন তরুণ সলিল তার স্নাতক পড়াশোনার জন্য কলকাতায় আসেন, তখনই ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক দল ভারতীয় গণনাট্য সংঘ বা আইপিটিএ-তে যোগদান করেন। এ সময় তিনি গণসংগীত লিখে তাতে সুর শুরু করেন। গ্রামে গঞ্জে ভ্রমণ করে এই গানগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে আসে। ফলে বিচারপতি রানার এবং অবাক পৃথিবীর মতো গানগুলো তখন সাধারণ জনতার কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। 

সংগীত জগতে অবদান

বাংলা চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালক হিসেবে ১৯৪৯ সালে ‘পরিবর্তন’ ছবির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ। এরপর ‘বাঁশের কেল্লা’, ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’, ‘গঙ্গা’, ‘কিনু গোয়ালার গলি’, ‘লালপাথর’, ‘আকালের সন্ধানে’, ‘হারানের নাতজামাই’ প্রভৃতি বহু বাংলা ছবিতে তিনি সুরারোপ করেন। প্রায় ৪০টি বাংলা ছবি, অন্তত ২৬ টি মালায়ালাম ছবিসহ বেশকিছু মারাঠি, তামিল, ওড়িয়া, অসমীয়া ছবির সংগীত পরিচালনা করেন। 

১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে ‘দো বিঘা জমিন’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমার সংগীতকার হিসেবে পথচলা শুরু। ৭৫টি হিন্দি সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেছেন। বাংলা গানে পাশ্চাত্য সংগীতের ব্যবহারের অগ্রপথিক। তিনি প্রথম কয়্যার সংগীতের প্রবর্তন করেন। 

সলিলের সুর

তাঁর সংগীতে পশ্চিমা ও ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীতের প্রভাব লক্ষ করা যায়। সলিল চৌধুরীর সুরকরা কালজয়ী গানগুলি একসময় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র এবং মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে কণ্ঠে ঘুরেছে। পঞ্চাশের দশকে তাঁর হাতেই সৃষ্টি হয় ‘বম্বে ইউথ কয়ার’ এবং ‘পলিফোনিক কয়ার’। এ ছাড়া গণসংগীতে কোরাস তাঁরই হাতে তৈরি। ‘ও আলোর পথযাত্রী’ ন আজও কানে বাজে। তাঁর সংগীত পরিচালনায় বাঙালির উল্লেখযোগ্য বাংলা ছবিগুলি হল ‘বাঁশের কেল্লা’, ‘আকালের সন্ধানে’ প্রভৃতি। 

পুরস্কার

১৯৫৮ সালে ফিল্মফেয়ার সংগীত পরিচালক পুরস্কার। ১৯৭৩ সালে বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড। ১৯৮৮ সালে সংগীত নাটক অকাদেমি পুরস্কার। 

জীবনাবসান

ভারতীয় সংগীতে সলিল চৌধুরীর মতো সংগীতপ্রতিভা বিরল। বাংলা গানে রবীন্দ্র-নজরুলের পরে এমন অসামান্য সংগীতকার আর জন্মগ্রহণ করেনি। এমনই বিরল সংগীত প্রতিভার জীবনাবসান হয় – ১৯৯৫ সালের ৫ ই সেপ্টেম্বর। মানুষটি না থাকলেও জন্মের শতবর্ষ পরেও তাঁর সুর তাঁকে অমর করে রেখেছে। 

উচ্চ-মাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার রচনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *